দুই জোটের অস্থিরতায় বিপাকে বিএনপি

সুহাদা আফরিন, ঢাকা ১০ মে, ২০১৯

এত দিন জোটের মধ্যে সমস্যার কথা প্রকাশ্যে বলে এসেছে ২০–দলীয় জোট। এবার আরেক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকরাও বলতে শুরু করেছে। ২০ দল থেকে এক শরিক চলে গেল। ঐক্যফ্রন্টের একজন ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। দুই জোটেরই কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিএনপি। হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদল করে শপথ, ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টে অস্থিরতা, দলীয় প্রধান জেলে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিদেশে—সব মিলিয়ে রাজনীতিতে কিছুটা বিপাকে পড়েছে বিএনপি।

নির্বাচন–পরবর্তী রাজনীতিতে বিএনপি বেশ চমক দেখিয়েই শপথ নিয়েছে। শপথের পর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাঁদের শপথ না নেওয়ার ব্যাপারে আগের সিদ্ধান্তই ভুল ছিল। তবে নির্বাচিত হয়ে তিনি শপথ নেননি। বিএনপির শপথ নেওয়া এবং শপথ নিয়ে তাদের রাজনীতিটা পছন্দ করেননি নিজ দলের অনেক নেতাই। এ ছাড়া তার দুই জোটের শরিকেরা শপথ নেওয়ায় বেশ সমালোচনা করছে।

সমালোচনার মধ্যেই গত সোমবার ২০ বছরের সম্পর্কের ২০–দলীয় জোট ছেড়ে দেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ। তাঁর জোট ছাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি ৩০ ডিসেম্বরের ‘প্রহসনের’ নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন। পার্থর বিজেপি ছাড়াও ২০ দলের অন্য শরিকেরাও বিএনপির ওপর নাখোশ ঐক্যফ্রন্টকে কেন্দ্র করে।

বিজেপি জোট ছাড়ার তিন দিনের মাথায় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়েছে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে দলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে যেসব অসংগতি আছে, তা নিরসন করা না হলে ৮ জুন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করবে।

নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে ঐক্যফ্রন্টের ভূমিকার সমালোচনা করেন জোটের শরিক দলের এই নেতা। ঐক্যফ্রন্ট পরিচালনায় দুর্বলতা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন। এ ছাড়া ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিতদের যে সাতজন শপথ নিয়েছেন, তাঁদের নিন্দা জানান কাদের সিদ্দিকী।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্যকে স্বাগত জানান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘উনি ওনার জায়গা থেকে তো বলতেই পারেন। আমি স্বাগত জানাই। আমরা সব সময় সরকারি দলের জবাবদিহির প্রশ্নে হইচই করেছি। আমাদেরও জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। জনগণও আমাদের দেখছে, কী করছি না করছি। আমরা এখন যার যার দল সামলাচ্ছি। প্রতিটা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অস্বস্তি চলছে। দুই সপ্তাহ যাক। একটু স্থির হই। আমরা বসব।’

কাদের সিদ্দিকীর ঐক্যফ্রন্টের অসংগতি নিরসনের তাগিদ দেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রাম-গণজাগরণের ভিত্তি সৃষ্টি করবে।’

নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে জোটের ভূমিকা নিয়ে কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্য প্রসঙ্গে আবদুর রব বলেন, জনগণকে নিয়ে যে প্রতিরোধ-সংগ্রাম গড়ে তোলা প্রয়োজন ছিল, তা হয়নি। তবে অসংগতি দূর করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজনীতিকে আরও বেগবান করতে হবে বলে জানান।

কাদের সিদ্দিকীর বেঁধে দেওয়া এক মাসের মধ্যে সংকট নিরসনের সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন না ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। জোটের মধ্যে অসংগতি আছে স্বীকার করে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘যে অসংগতি রয়েছে, তা দূর করা জন্য বিএনপিকেই বলতে হবে, শপথ নেওয়ার ব্যাপারে এই এই হয়েছে, লন্ডন থেকে নির্দেশ আছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, উদ্যোগটা বিএনপির বা ড. কামাল হোসেনের নেওয়া উচিত। যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার জন্য বিএনপিকেই উদ্যোগ নিতে হবে।’ তবে তিনি জোট নিয়ে আশা ছেড়ে দিতে চান না।

দলের একটা খারাপ সময় যাচ্ছে বলে জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জেলে, যিনি দল চালাচ্ছেন তিনি দেশের বাইরে। দেশের বাইরে থেকে দল চালানো কঠিন, তবে তিনি চেষ্টা করছেন।

ঐক্যফ্রন্টের অসংগতি আছে, কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্যে সঠিক বলে জানান মাহবুবুর রহমান। শপথ নিয়ে কাদের সিদ্দিকীর সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেক ভুল হয়েছে, ভুল করছি।’

বর্তমান সংকট নিরসন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, সংকটের উত্তরণ ঘটতে পারে দলের মধ্য থেকেই। দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আন্দোলনের জন্য দলের একটা ভূমিকা থাকতে হবে।

মন্তব্য

  • image

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    ১০ মে, ২০১৯

    ঐক্য ফ্রন্টের আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষনা না করার রহস্য কি?

    • image

      নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

      ১০ মে, ২০১৯

      কোনোই রহস্য নেই। ভাত রাঁধতে গেলে তো আপনার চাল লাগবে, নাকি?!?

    • image

      নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

      ১১ মে, ২০১৯

      ঐক্যের মাঝেও যে যোজন চওড়া ফাঁটল!

  • image

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    ১০ মে, ২০১৯

    বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে কোনদিন তারা আওয়ামীলীগের মতো এক নেতৃত্বে দেশ চালাতে পারবে? যদি না পারে তবে তাদের ক্ষমতায় আসার দরকার কি? দেশের ভালো তো তারাও চায়। তারা না হয় দেশের ভালো চিন্তা করে দল বিলুপ্ত করে দিলো। তাহলেই তো অন্য একটা ভালো দল আসতে পারে।

  • image

    শিপন England

    ১০ মে, ২০১৯

    এক খান রসির চতুর্দিকে টানাটানি কর লে তা সোজা থাকে না বাকা হতে বাদ্য, বর্তমানে তারেক মিয়ার অবস্থা এই মাঝ খানে।

  • image

    Rupom

    ১০ মে, ২০১৯

    বিএনপির আন্দোলন দূরের কথা ডাল চালের খিচুড়ি রান্নায়ও দক্ষতা নেই!!

  • image

    msIqbal

    ১০ মে, ২০১৯

    এইটাকে 'বিপাক' না বলে বলুন 'গুরুপাক'! বেশি খাইতে চাইলে শেষে পাতাও জোটে না!

  • image

    msIqbal

    ১০ মে, ২০১৯

    বেশি কৌঁসুলী হতে গিয়ে রাম ধরা খাইছে!

  • image

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    ১০ মে, ২০১৯

    BNP is in right track. Everyone knows who is good or bad.

  • image

    সা মো মছিহ্ রানা

    ১০ মে, ২০১৯

    লন্ডনী নেতার হীন স্বার্থপরতা, কারসাজি-কৌশল, একপেশে সিদ্ধান্তে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি-নৈতিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন বিএনপি আজ কান্ডারিবিহীন দলে পরিণত হয়েছে। লন্ডনী নেতার পানে চেয়ে থাকতে থাকতে বিএনপি আজ চরম অবস্থায় উপনীত হয়েছে। যার পরিণতি দেশের মানুষকে নির্মমভাবে ভোগ করতে হচ্ছে। লন্ডনী নেতা-শর্মিলী-জামায়াত কানেকশন তালাক দিয়ে বিএনপিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অবিচল সত্যিকার দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদি নেতা সৃষ্টি করা গেলেই দেশ বাঁচবে, বন্ধ্যাত্ব থেকেও মুক্তি মিলবে বিএনপির।

    • image

      নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

      ১০ মে, ২০১৯

      মছহরানা ভাই! আপনাকে অনেক ধন্যবাদ! আপনি একেবারে বি এন পি এর সঠিক অবস্থাটি তুলে ধরেছেন। যে আদর্শের উপর ভিত্তি করে এই দলের জন্ম হয়েছিল, আজ সেই আদর্শ থেকে আলোক বছর দুরে এই দল। সব ধানদাবাজরা এই দলকে দখল করে নিয়েছে। এ ধরনের দল দিয়ে দেশ আর জনগনের কোন সেবা বা উন্নতি হবে না।

  • image

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    ১০ মে, ২০১৯

    কূল রাখি না শ্যাম রাখি !

  • image

    Mr.PrimeMinister

    ১০ মে, ২০১৯

    বিএনপির সংসদে অংশগ্রহণ হল, রাজনৈতিক উত্তেজনায় পানি ঢেলা দেয়ার মত |

  • image

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    ১০ মে, ২০১৯

    মনোযোগ দিয়ে শুনলে হয়তোবা সক্রেটিস-এরিস্টটলের কথাও কালেভদ্রে কিছুটা বোঝা যায়। কিন্তু তাই বলে ফখরুলের দর্শন...?? 'শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ভুল' বলে নিজেই কেবল রইলেন শপথের বাইরে। তাতে কী বুঝলাম? হয় ভদ্রলোক বায়ুগ্রস্ত আর নইলে আমিই অপোগন্ড।

  • image

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    ১১ মে, ২০১৯

    "দলীয় প্রধান জেলে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিদেশে—সব মিলিয়ে রাজনীতিতে কিছুটা বিপাকে পড়েছে বিএনপি।" কিছুটা নয়, বেশ কঠিন সংকটেই রয়েছে বিএনপি। কিভাবে এই জট থেকে বিএনপি বেরুবে কেউ বলতে পারে না। দল পরিচালনার কাজ মা-ছেলের কুক্ষিগত থাকায় বিএনপি এখন গ্রেট ডেঞ্জার সিগ্ন্যাল নম্বার ৯-এ দাঁড়িয়ে আছে। বর্ষীয়ান নেতারা জানেন না তাঁরা কি করে শতজট খুলবেন। তাঁদের সকল সূক্ষ চিন্তা শক্তি বয়সের ভারে নিশ্চল হয়ে গেছে। আর, যারা সচল রয়েছে তারা আবার কুবুদ্ধি ছাড়া আর কিছুই জানে না।

  • image

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    ১১ মে, ২০১৯

    BNP শেষ হয়ে গেছে l মরা বাচ্চা নিয়ে কান্না করে লাভ কি ? তারেকের লোভ এর মূল কারণ l

  • image

    Md. Fokir

    ১১ মে, ২০১৯

    তারেক সাহেব না থাকলেই দলটা সব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারতো l কিন্তু তারেক হলো গোড়ায় গোলদের মতো l

  • image

    pinku pinku

    ১১ মে, ২০১৯

    একটা সময়ে জাসদ, জাতীয় পার্টির মত অবস্থা হবে।

সব মন্তব্য